বিশেষ অনুসন্ধান | এ. আর. সাইফুল ইসলাম |
“আমি শুধু বিশ্বাস করেছিলাম। সেই বিশ্বাসটাই আমার শাস্তি হয়ে দাঁড়ালো!” — মনির
পরিচিতির ফাঁদে নিঃস্বতা মনির, এক সময়ের সম্মানিত যুবক। আজ সমাজচ্যুত এক অসহায় নাম।
এক আত্মীয় ইমাদ উদ্দিনের মাধ্যমে সৌদিতে ৬ মাসের আকর্ষণীয় ভিসার প্রলোভন—১৩০ থেকে ১৫০ হাজার টাকায় কর্মসংস্থান, থাকা-খাওয়ার নিশ্চয়তা।
মনির নিজের সম্মান দিয়ে ২০ জন যুবকের পাসপোর্ট ও প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা ইমাদকে তুলে দেন।
কিন্তু ছয় মাসেও কোনো ভিসা এল না। শুরু হয় মানুষের চাপ, অপমান আর দাবি—
“টাকা ফেরত দাও।”
বিশ্বাসের মূল্য—বাবার মৃত্যু, মায়ের কান্না
ভিসা না পাওয়ায় প্রতিটি পরিবার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
মনির দোষী নয়—তবু তিনি নিজের বিবেকের দায়ে জমি বিক্রি করেন, ঘরের আসবাব ও অটোরিকশা বিক্রি করেন।
অসহনীয় মানসিক চাপে তার বাবার মৃত্যু হয়। আজ মা অসুস্থ। আর মনির সমাজে মাথা নিচু করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। প্রতারক বিদেশে বিলাসে, মনির বাঁচে দুঃখে!
ইমাদ উদ্দিন আজো ধরা পড়েনি।
বরং নিজের আত্মীয়দের সৌদি ও লন্ডনে পাঠিয়েছে,
মনিরকে দিয়েছিল কথা—
“ভিসা না হলে ডাবল টাকা ফেরত!”সবই ছিল প্রতারণার ফাঁদ। বিচারের বদলে সমাজচ্যুতি স্থানীয় সালিশে মনিরকে ১৫ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে বাধ্য করা হয়,
শুধু আকামা না হওয়ার ‘অপরাধে’।
অথচ প্রতারকের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তার নেই। মনিরের আর্তনাদ | প্রতিবাদে এ. আর. সাইফুল ইসলাম “আমি অপরাধী নই, আমি ঠকেছি। আমার অপরাধ ছিল বিশ্বাস করা। প্রতারক আজো বহাল তবিয়তে। আমি এর প্রতিবাদ করবো—প্রেস মর্ডান ফেসবুকের মাধ্যমে। কারণ এই চক্র সমাজ ধ্বংস করছে।”