বিশেষ প্রতিবেদক, এ আর সাইফুল ইসলাম : নাছরিন আক্তার ফাঁকি দিয়ে প্রেম-যৌতুক প্রস্তাবে জড়িয়ে ফাহাদ, পরিবারের পরিকল্পিত ক্ষতিকারক সহিংসতার প্রতিক্রিয়া সমাজে আলোড়ন—পুলিশের নির্লিপ্ত গন্ধ মিলছে আলামতে। কয়েকবারের মতন গিয়েও নাছরিনের ভাই আলম (২৪) কোন মূল্যবোধ পায়নি। সাংবাদিক জাতীয় দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রা ক্রাইম রিপোর্টার এ আর সাইফুল ইসলামকে বিষয় নিশ্চিত করেছেন।
নাছরিনের জামাই ফাহাদ হোসেন (জন্ম: ১৫/০৪/২০০২; নিকাহ নামা: ০২/০৩/২০২৪) ও তার পরিবার—ফেরদাউস শাশুড়ি,নানী শাশুড়ী, মামা বিল্লাল, বড় ননদ পিংকি ও ছোট ননদ—নাছরিন আক্তার নামে এক স্কুলছাত্রীকে (ক্লাস ১০ প্র্যাক্টিক্যাল ছাত্রা) পরিকল্পিতভাবে যৌতুক চাপে ফেলে অবর্ণনীয় নিপীড়ন করেছে। তারা শুধু মেনে নেয়নি নিজের নিরাপত্তা বা সম্মান; বরং পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের সম্মানও ভূলিয়ে দিয়েছে। এ পর্যন্ত নিকাহ হয়েছিলেও এরা নাছরিনকে নিজেদের ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের সহায়তা না পাওয়া ভুগছেন নাছরিনের পরিবার৷ আসামি প্রকাশ্যে ঘুরার পরেও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া—এসব বিষয় সমাজে ন্যায্য বিচার ও সরকারের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
বিষয়ঃ মো. ফাহাদ হোসেন ও তাঁর পারিবারিক সদস্যদের বিরুদ্ধে সামাজিক, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ।
অভিযোগের সারাংশ (ঘটনার কালক্রমে):
১. প্রেম ও প্রতারণা
ফাহাদ দীর্ঘদিন ধরে স্কুলছাত্রী নাছরিনকে রাস্তায় চোখে চোখ রাখে, পরে তার বান্ধবী জয়া ও সুমাইয়ার মাধ্যমে প্রেমের ফাঁদে ফেলিয়ে যৌতুকের অসমর্থ দাবি করে।
২. ঘটনাটি সরোজমিন অনুসন্ধান শারীরিক ও মানুষিক অত্যাচার।
বিয়ের ১০–১২ দিনের মধ্যেই নাছরিনকে স্বামীর পরিবারের লোকজন, পরিকল্পিতভাবে ঘর থেকে বের করে দেয়, অসামাজিক গালিগালাজ আর রাস্তার মেয়ে দেহ ব্যবসায়ী অকাট্য অত্যাচার ও পেছন থেকে নির্যাতন করা হয়।
৩. পরিবারের বাস-মেরুদণ্ড হিমশীতল নির্যাতন
শাশুড়ি, ননদ-ননদের বিরুদ্ধে শিশু-প্রাপ্তবয়স্ক নাছরিনকে নির্যাতন, অপমান, খাবারে অবিশ্বাস, খিদ্যা-চাপ, এবং মারধরের অভিযোগ। একপর্যায়ে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ, খাবার বন্ধ, শারীরিক হিংসা চালানো হয়।
৪. যৌতুকের অমানবিক চাপ:
২ লক্ষ টাকা না দিলে, নাছরিনকে পুলিশের আশ্রয় বা ফাঁসি-আদায়ে ফেলার ভয় দেওয়া হয়। ফাহাদ,নানী শাশুড়ি ও শাশুড়ী ও মামা বিল্লাল,ননদ মিলে ভয়-ধামকিতে পরিমাণহীন নির্যাতন চালায়।
৫. পুলিশের নির্লিপ্ততা
নাছরিন ও তার পরিবার শাহরাস্তি থানায় ওয়ারেন্ট ৩১/০৫/২০২৫ তারিখে যোগাযোগ দিয়েছে, তার আগেও দিয়েছে এখনও দিচ্ছে আজও আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন হয়নি।
অভিযুক্তদের ইতিবৃত্ত (উল্লেখযোগ্য নাম ও ভূমিকা):
মোঃ ফাহাদ হোসেন (জামাই): প্রধান অভিযুক্ত, প্রেমের প্রলোভন দিয়ে নাছরিনের জীবন বিপর্যস্ত করেছে ও পরিবারের সহিংস আচরণের নীরব অনুমোদন করেছে।
বিল্লাল (জামায়ের মামা): নাছরিনকে ‘রাস্তার মেয়েদের মিথ্যা’ ব্যঙ্গ করে এবং তার সাথে এক কাটানোর কথা বলে, এতে জামাই, ননদ, শাশুড়ী আরও উস্কানিমূলক আচরণ থ্যাবড়ানো হয়েছে এবং ফোনে গালিগালাজ করে, শারীরিক ও মানসিক হেনস্থায় উস্কানি।
নানী শাশুড়ী, শাশুড়ি, ননদ‑ননদের মা-বোনরা: পরপর মারধর, খাবার-খিদ্যা-ব্যবস্থায় বাধা, বালিশ বা অন্যান্য জিনিস দিয়ে শ্বাসরোধ, গায়ে হাত, গলা চাপা,তোলা ও অপমানের দায় নেয়।
পিংকি (বড় ননদ): পরিবারের সবচেয়ে নির্যাতনকারী—সঙ্গে থাকা প্রমাণ; বড় ননদের সামনেও মারধর ও অপমানের জন্য ওঁর ভূমিকাও অপরিসীম।
অনুরোধীয় আদালতির পদক্ষেপ:
১. ৭৩ এর ১৪৪ ধারার অধীনে ফৌজদারি তদন্ত শুরু এবং অভিযোগ অনুযায়ী ব্যাপক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন—সংযুক্ত সাক্ষ্য, রিপোর্ট, পরিবারের বয়ান, আইনি স্বাক্ষীাদি সংগ্রহ করা হোক।
২. তৎক্ষণাৎ মামা বিল্লাল, শাশুড়ি, পিংকি ও অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও আদালতে হাজির করা।
৩. নাছরিনের মানবাধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ হেফাজত ও স্কুল-স্বাধীনভাবে চলাফেরার অনুমতি প্রণয়ন।
৪. যৌতুক ও পারিবারিক নির্যাতনের প্রতিকার সংক্রান্ত আইনের প্রয়োগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
সমাপনী বিবৃতি:
এই অভিযোগ এক নারীর প্রাণের আবেদন—“এমন ইতিহাসে এ যেন কালো অধ্যায়, যা কেউ ভুলতে চাইবে না।” অল্প বয়সে স্কুল লাইফ ছিল, আজ সে বর্বর নির্যাতনের শিকার। পারিবারিক হিংসা নয়, একটি মানবাধিকার লঙ্ঘন; সুতরাং একটি জাতির দায়িত্ব এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার। আইনি প্রতিকার ও শাস্তির ব্যবস্থা না হলে, সমাজে এক অন্ধকার বার্তা যাবে—‘যৌতুক এবং পারিবারিক পরিকল্পিত নির্যাতন করেও পার পেতে পারি’।